Category Archives: বিজ্ঞান

অ্যাংস্ট্রম কি?

দৈর্ঘ্যের অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি একক হচ্ছে অ্যাংস্ট্রম। আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য, অণু-পরমাণুর মধ্যকার দূরত্ব বা ব্যাস, ক্রিস্টাল বা স্ফটিকের তলগুলোর মধ্যকার দূরত্ব, কোষের বিভিন্ন পরিমাপ, ইত্যাদি ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য প্রকাশের জন্য অ্যাংস্ট্রম একক ব্যবহার করা হয়। যেমন আমরা বলি, বেগুনী আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৪,০০০ অ্যাংস্ট্রম। সুইডেনের বিজ্ঞানী অ্যান্ডার্স জোনাস অ্যাংস্ট্রমের (Anders Jonas Ångström) নামানুসারে অ্যাংস্ট্রম এককের নামটি এসেছে। বিকিরণ বিশ্লেষণে বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্র বা স্পেকট্রোস্কোপ ব্যবহারের পথিকৃৎ ছিলেন তিনি। সূর্যে যে হাইড্রোজেন আছে সেটা সূর্যের আলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনিই জানিয়েছিলেন।

এক অ্যাংস্ট্রম হচ্ছে এক মিটারের দশ বিলিয়ন ভাগের এক ভাগ বা 10−10 মিটার (0.0000000001)।

এক অ্যাংস্ট্রম = ০.১ ন্যানো মিটার

অ্যাংস্ট্রমকে স্ক্যান্ডিনেভীয় বর্ণ Å এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

অ্যাংস্ট্রম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একক হলেও এটি এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি এসআই (SI) পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়।

গর্জনশীল চল্লিশা

দক্ষিণ গোলার্ধের ৪০ ডিগ্রি  থেকে ৫০ ডিগ্রি অক্ষাংশ পর্যন্ত এলাকায় প্রবাহিত শক্তিশালী বায়ু প্রবাহ গর্জনশীল চল্লিশা নামে পরিচিত। আবার ৪০ ডিগ্রি থেকে ৫০ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত এলাকাকেও গর্জনশীল চল্লিশা বা Roaring Forties বলে। সারা বছর ধরে পশ্চিম দিক থেকে প্রবল বায়ুপ্রবাহ এ এলাকার বৈশিষ্ট্য।

নাবিকদের মাধ্যমে এমন নামকরণ হয়েছে। পালতোলা জাহাজের যুগে ইউরোপ থেকে ভারত বা অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাতে নাবিকরা এই এলাকার বায়ুপ্রবাহের সহায়তা নিতেন। এখনও শখের পালতোলা নৌকায় চড়ে পৃথিবী প্রদক্ষিণে গর্জনশীল চল্লিশার সাহায্য নেয়া হয়।

বিষুবীয় এলাকার উত্তপ্ত বায়ু ওপরে উঠে মেরু অঞ্চলের দিকে যায়। এই উত্তপ্ত বায়ু আবার ৩০অক্ষাংশে এসে নিচে নামে এবং মেরুর দিকে প্রবাহিত হতে থাকে। আবার পৃথিবীর ঘূর্ণনজনিত কারণে উত্তর গোলার্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়। উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ বেশি, ফলে এই পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহ বিভিন্নভাবে বাধা পায়। কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধের স্থলভাগের পরিমাণ কম, বায়ুপ্রবাহ খুব একটা বাধা পায় না। ফলে প্রবল বেগে বায়ু প্রবাহিত হয়। ৪০ থেকে ৫০ দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত এলাকায় এই প্রভাব বেশি।

আরও দক্ষিণের অক্ষাংশেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার প্রভাব আরও বেশি, এগুলো Furious Fifties, Screaming Sixties ইত্যাদি নামে পরিচিত।

মানবদেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

মানবদেহের প্রয়োজনীয় ক্রিয়াগুলোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত তাপমাত্রা হল ৩৭ সেলসিয়াস বা ৯৮.৬ ফারেনহাইট। সহজ ভাষায় তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশি বা কম কোনটাই মানবদেহের জন্য সুবিধাজনক নয়। আমাদের চারপাশ ঠাণ্ডা হতে পারে, গরম হতে পারে কিন্তু মানবদেহ ঠিকই স্বাভাবিক তাপমাত্রা বা ৩৭ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় থাকার চেষ্টা করে। অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে আগুনে ঝাঁপ দিলে কিংবা ০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও দেহ নিজেকে সামলে নিতে পারবে। এতটা সমলে নেয়ার ক্ষমতা নেই বলেই কখনো শীতবস্ত্র আবার কখনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র প্রয়োজন হয়।

দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কয়েকটি ব্যবস্থার কথা বলা যায়:

ঘাম নি:সরণ

মানবদেহকে ঠাণ্ডা করার একটি উপায় হল ঘাম নি:সরণ। প্রচণ্ড গরমে ঘর্মগ্রন্থি থেকে ঘাম নি:সৃত হয়। বাইরের বাতাসের সংস্পর্শে এসে এই ঘাম বাষ্পীভূত হয় আর বাষ্পীভূত হতে প্রয়োজন হয় সুপ্ত তাপ বা লীন তাপ। এই তাপটা আসে শরীর থেকে, যার ফলে শরীর ঠাণ্ডা হতে পারে।

অবশ্য ঘামের কিছু অসুবিধাও আছে। ঘামের সাথে শুধু পানি নয় সোডিয়াম এবং ক্লোরাইড আয়নও বেরিয়ে যায়। সোডিয়াম বা ক্লোরাইড আয়নের ঘাটতি হলে দেহকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গরমের দিনে ঘাম হলে বেশি পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার খাওয়া ছাড়াও প্রয়োজনে স্যালাইন পান করতে হয়।

রক্তনালীর প্রসারণ ও সংকোচন

শরীর থেকে তাপ বের দেয়ার আরেকটি উপায় হচ্ছে রক্তনালীর প্রসারণ। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে চামড়ার একেবারে নিচে ছড়িয়ে থাকা সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়। এর ফলে রক্তপ্রবাহ বাড়ে আর অতিরিক্ত রক্তপ্রবাহের ফলে শরীর থেকে বেশি পরিমাণে তাপ বেরিয়ে যেতে পারে।

শীতের সময় ঘটে উল্টো ঘটনা। তখন এই সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে আসে। ফলে চামড়ার নিচে রক্তপ্রবাহ কমে আসে, শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যাওয়ার হারও কমে আসে।

 

কাঁপুনি ও পেশীর সংকোচন

প্রচণ্ড শীতে কাঁপুনি আর পেশীর সংকোচনের ফলে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োজন হয়। এই শক্তি আসে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে। যার এর ফলে অতিরিক্ত উত্তাপও তৈরি হয় যা প্রচণ্ড শীতে কিছুটা স্বস্তি দেয়।

লোম দাঁড়িয়ে যাওয়া

প্রচণ্ড শীতে পেশী সংকুচিত হয়ে লোমের গোড়াকে চামড়ার দিকে টেনে ধরে, যার ফলে লোম খাড়া হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে শরীরের লোম তুলনামুলকভাবে বেশি বাতাস ধরে রাখতে পারে। বাতাস তাপ পরিবহনে বাধা দেয়। কাজেই লোম দাঁড়িয়ে যাওয়াটাও স্বস্তি দেয় শীতে। গরমে আবার উল্টো ঘটনা ঘটে। পেশী শিথিল হয়ে আসে, লোমের গোড়ায় পেশীর টান থাকে না, লোমও দাঁড়িয়ে থাকে না। কাজেই লোমের কারণে খুব বেশি বাতাস শরীরের সাথে আটকে থাকে না, তাপ পরিবহনে বাধা কমে আসে এবং গরমে স্বস্তি পাওয়া যায়।

দেহের তাপমাত্রা যেভাবে বুঝতে পারে মস্তিষ্ক

দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য চামড়ায় থাকা স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্ক পরিবেশের তাপমাত্রা সম্পর্কে ধারনা নেয়। এছাড়া মস্তিষ্কে প্রবাহিত রক্তের তাপমাত্রার ওপরও নজর রাখে মস্তিষ্ক।

সিলিকা জেলের কথা

অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধ বা শুকনো খাবারের কনটেইনারে সিলিকা জেলের প্যাকেট রেখে দেয়া হয়। পেটুক লোকেরা যাতে খেয়ে না ফেলে সেজন্য লিখে রাখা হয়, ‘Do not eat’ বা ‘খেয়ো না’। ক্যামেরার লেন্স, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য, ট্রাভেল ব্যাগ, স্যুটকেসসহ বিভিন্ন পণ্যের মোড়কেও সিলিকা জেল থাকতে পারে।

১৬৪০ সালেও সিলিকা জেলের সাথে তখনকার বিজ্ঞানীদের পরিচয় ছিল। পানিশোষক এই পদার্থটি নিয়ে বেশ আগ্রহ ছিল তাদের মাঝে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় গ্যাস মুখোশে জলীয় বাষ্প শোষক হিসেবে সিলিকা জেল ব্যবহৃত হত আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পেনিসিলিন শুষ্ক রাখতে সিলিকা জেল ব্যবহৃত হত। এমনকি সামরিক যন্ত্রপাতিকে আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করতে সিলিকা জেল ব্যবহৃত হত বলে শোনা যায়।

সিলিকা জেল কি এবং কেন?

পানি বা বাষ্প শোষণের ক্ষমতার জন্যই সিলিকা জেল ব্যবহার করা হয়। সিলিকা জেল আসলে সিলিকন ডাই অক্সাইড (SiO2), কোয়ার্টজও আসলে সিলিকন ডাই অক্সাইড; এমনকি বালুতেও সিলিকন ডাই অক্সাইড থাকে। সিলিকা জেলের অণুগুলোর ফাঁকে পানি বা বাষ্প শুষে নেয়ার মত যথেষ্ট জায়গা থাকায় এগুলো নিজের ওজনের ৪০ ভাগ পর্যন্ত পানি বা বাষ্প শুষে নিয়ে কোন কনটেইনারের আর্দ্রতা ৪০ ভাগ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।

সিলিকা জেল কি বার বার ব্যবহার করা যায়?

বাষ্প শুষে সম্পৃক্ত হয়ে যাওয়ার পর অবশ্য সিলিকা জেল কোন কাজে আসে না। তখন পুরনো প্যাকেট ফেলে দিয়ে নতুন প্যাকেট রাখতে হয়। কিন্তু পুরনো প্যাকেটও ঘণ্টাখানেক ৩০০ ফারেনহাইট বা ১৫০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রেখে শুকিয়ে নিয়ে ব্যবহার উপযোগী করে ফেলা যায়। এদিকে রঙিন সিলিকা জেলে ব্যবহৃত রাসায়নিক উত্তাপে নষ্ট হয়ে যায়, এদের বেশি উত্তপ্ত করা যায় না। কোনটি ১০৫ সেলসিয়াস আর কোনটি ১২০ সেলসিয়াসের বেশি উত্তপ্ত করা যায় না।

কিভাবে বুঝবেন সিলিকা জেল আর কাজ করছে না?

Silica-Gel-3পুরনো সিলিকা জেলের প্যাকেট কিছুদিন পর ফেলে দিয়ে নতুন প্যাকেট রাখতে হয়। সাধারণ স্বচ্ছ সিলিকা জেল দেখে কিছু বোঝা যায় না। তবে অনেক ক্ষেত্রে সিলিকা জেলের সাথে কোবাল্ট (২) ক্লোরাইড এবং মিথাইল ভায়োলেটের মত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। শুষ্ক অবস্থায় কোবাল্ট (২) ক্লোরাইড নীল দেখায় আর আর্দ্র অবস্থায় গোলাপি দেখায়। এদিকে মিথাইল ভায়োলেট নির্দেশক দু’রকম হতে পারে, একটি আর্দ্রতা বাড়ার সাথে সাথে কমলা থেকে সবুজ রং ধারণ করে অন্যটি কমলা থেকে বর্ণহীন পদার্থে পরিণত হয়।

সিলিকা জেল কি বিষাক্ত?

সিলিকা জেল কোনভাবেই খাওয়ার উপযোগী নয়, তবে খেয়ে ফেললে গুরুতর কিছু হওয়ার আশঙ্কাও নেই। কিন্তু নির্দেশক রাসায়নিক যুক্ত সিলিকা জেল খেয়ে ফেললে পেটে অস্বাচ্ছন্দ্য বা বমিভাব হতে পারে। তবে সিলিকা জেল খেয়ে মারা যাওয়ার ঝুঁকি নেই। আর তাই খাবার বা ওষুধের কনটেইনারেও সিলিকা জেলের প্যাকেট রেখে দেয়া হয়।

কতটুকু সিলিকা জেল প্রয়োজন?DIGITAL CAMERA

আপনার কনটেইনারে কতটা সিলিকা জেল লাগবে সেটা কনটেইনারে কি রাখা হচ্ছে, কনটেইনারের ধরন, পরিবেশ ইত্যাদি বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। মোটামুটিভাবে শুষ্ক পরিবেশে বায়ুরোধী কনটেইনারের জন্য প্রতি ঘনমিটারে ২০০ গ্রাম সিলিকা জেল ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়।

ব্যবহৃত সিলিকা জেল কোথায় ফেলবেন?

 

সিলিকা জেল পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়, স্বাভাবিকভাবেই ফেলে দিতে পারেন। তবে কোন ক্ষতিকর রাসায়নিকের আর্দ্রতা শোষণের জন্য সিলিকা জেল ব্যবহৃত হয়ে থাকলে সেই রাসায়নিক শোষণ করে সিলিকা জেলও বিষাক্ত হয়ে উঠতে পার, সেক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সিলিকা জেলের আরও কিছু ব্যবহার

আপনার টুলবক্সের যন্ত্রপাতিগুলোকে মরিচা পরার হাত থেকে রক্ষা করতে, শেভিং রেজর বেশি দিন ব্যবহার করতে কিংবা কাপড়ের আলমারিতে কাপড় শুষ্ক রাখতে সিলিকা জেল ব্যবহার করতে পারেন।

কার্মান রেখা, মহাকাশের শুরু যেখান থেকে

মহাকাশের শুরু কোথা থেকে? পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যেখানে শেষ হয়েছে সেখানেই মহাকাশের শুরু। কিন্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল কোথায় শেষ হয়েছে? এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে পর্বতারোহীরা অক্সিজেনের সিলিন্ডার বহন করেন, অথচ পর্বতারোহীদের আমরা মহাকাশচারী বলি না। বেশ ওপর দিয়ে যেসব বিমান উড়ে যায় সেগুলোতেও কৃত্রিমভাবে বায়ুচাপ বজায় রাখতে হয়, বিমানকেও আমরা মহাকাশযান বলি না।

Karman-line-1

আসলে এভারেস্টের চূড়ায়ও বায়ুমণ্ডল আছে। তবে সেখানকার বায়ুচাপ সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুচাপের তিন ভাগের এক ভাগ, অক্সিজেনের পরিমাণও তিন ভাগের এক ভাগ। আবার বিমান যে উচ্চতায় উড়ে যায় সেখানেও বায়ুমণ্ডল রয়েছে আর বায়ুমণ্ডল আছে বলেই ডানায় ভর করে বিমান উড়ে যেতে পারে। তবে বাতাসের চাপ কম হওয়ায় বিমানের ভেতর কৃত্রিমভাবে বায়ুচাপ বজায় রাখার ব্যবস্থা করতে হয় যাতে যাত্রীদের কোন অসুবিধা না হয়।

ওপরে ওঠার সাথে সাথে বায়ুস্তর পাতলা হতে থাকলেও পৃথিবী থেকে ১০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল রয়েছে। তবে কি ১০ হাজার কিলোমিটারের পর থেকে মহাকাশের শুরু?

মহাকাশের শুরু কোথা থেকে ধারা হবে এটা অনেকটা ইচ্ছাধীন, অর্থাৎ সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি রেখা কল্পনা করা হয়, এই রেখার পরের এলাকাকে মহাকাশ হিসেবে ধরা হয়। একে বলা হয় কার্মান রেখা বা কার্মান লাইন। কার্মান রেখা পেরুলেন মানেই আপনি মহাকাশে পৌঁছে গেলেন, নভোচারী হিসেবেও দাবি করতে পারবেন নিজেকে। কার্মান রেখার পরের এলাকা মহাকাশ-বিদ্যার আলোচ্য বিষয় আর ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতা বা কার্মান রেখা পর্যন্ত এলাকা বিমানবিদ্যার আলোচ্য বিষয়।

 

Karman-line-2

১০০ কিলোমিটারের সীমা নির্ধারণের পেছনে একটি কারণও আছে। হাঙ্গেরীয়-আমেরিকান প্রকৌশলী ও পদার্থবিজ্ঞানী থিয়েডোর ভন কার্মান এই সীমা প্রস্তাব করেন। বিমান চলতে শুরু করলে ডানার ওপর একটি ঊর্ধ্বমুখী বল তৈরি হয় যে কারণে বিমান আকাশে উড়তে পারে। কিন্তু বায়ুস্তর পাতলা হওয়ার সাথে সাথে ঊর্ধ্বমুখী বলের পরিমাণ কমতে থাকে, ঊর্ধ্বমুখী বলের যোগান দেয়ার জন্য বিমানকে আরও দ্রুত চলতে হয়। থিয়েডোর ভন কার্মান হিসেব কষে দেখান ১০০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুস্তর এতটাই হালকা হয়ে যায় যে সেখানে বিমানের পক্ষে আর ডানায় ভর করে ওড়া সম্ভব নয়। এ এলাকায় বিমান ওড়ানোকে কক্ষপথে রকেটের ছুটে চলার সাথে তুলনা করা যায়। মূলত এ কারণেই কার্মান ১০০ কিলোমিটারের পরের এলাকাকে মহাকাশ হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করেছিলেন।

এদিকে বায়ুমণ্ডলের যে এলাকা থেকে বাতাসের চাপ প্রতি বর্গফুটে এক পাউন্ডের কম সেখান থেকে মহাকাশের শুরু হিসেবে বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনী। এ হিসেবে মোটামুটিভাবে ৮১ কিলোমিটারের পর থেকে মহাকাশের শুরু। পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে এ উচ্চতা পেরুলেই নভোচারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় তারা।

আরও কিছু তথ্য:

  • আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের উচ্চতা ৪০০ কিলোমিটারের মত।
  • বেলুন নিয়ে মহাকাশে গিয়ে ঝাঁপ দেয়ার যে ঘটনা ঘটেছে সেটা কেবল ৪০ কিলোমিটারের মত উচ্চতা থেকে ঝাঁপ দেয়ার ঘটনা।

উত্তর গোলার্ধে যখন শীতকাল, দক্ষিণ গোলার্ধে তখন গ্রীষ্মকাল

season-1

পৃথিবীর ঋতু পরিবর্তনের ব্যাপারটি বেশ মজার। উত্তর গোলার্ধ যখন শীতে কাঁপছে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেডিয়ামগুলোয় দর্শকরা তখন গ্রীষ্মের ঢিলেঢালা পোশাক পরে হাজির হচ্ছেন।

শীতকালটা কেন ঠাণ্ডা এর উত্তরে অনেকে বলে দেন, এ সময়টা সূর্য পৃথিবী থেকে দূরে চলে যায়। বিষয়টি আসলে অন্যরকম।

পৃথিবী ঠিক বৃত্তাকার পথে সূর্যের চারিদিকে ঘোরে না, একটি উপবৃত্তাকার পথে আবর্তন করে। ফলে পৃথিবী কখনো সূর্যের কিছুটা কাছে আর কখনো কিছুটা দূরে অবস্থান করে। কিন্তু দূরত্বের এই পরিবর্তন পৃথিবীর ঋতু পরিবর্তনে তেমন একটা প্রভাব ফেলে না।

 

Earth-Orbit

পৃথিবীর ঋতু পরিবর্তনের প্রধান কারণ নিজ অক্ষের ওপর হেলে থাকা। পৃথিবী নিজ অক্ষের ওপর ঠিক খাড়াভাবে না থেকে ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে থাকে। এই হেলে থাকাটাই ঋতু পরিবর্তন ঘটায়।

পৃথিবী হেলে থাকায় কখনো উত্তর মেরু সূর্যের দিকে হেলে থাকে আর কখনো দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে হেলে থাকে।

পৃথিবীর যে অংশটি সূর্যের দিকে হেলে থাকে সে অংশের আকাশে সূর্য খাড়াভাবে আলো দেয়, ফলে সূর্যের আলোর তেজ বেশি হয় সেইসাথে দিনটাও দীর্ঘ হয়। ফলে বেশি সময় ধরে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয় এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। আবার এ সময়টায় রাত সংক্ষিপ্ত হওয়ায় ভূপৃষ্ঠ ঠাণ্ডা হওয়ার জন্যও বেশি সময় পায় না। যার ফল গ্রীষ্ম।

এই হেলে থাকার কারণেই ২১ জুন উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে দীর্ঘ হয়। তাই ২১শে জুন এর আগের এবং পরের দেড় মাস উত্তর গোলার্ধের জন্য গ্রীষ্মকাল। ঠিক একই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের বিপরীত দিকে হেলে থাকার কারণে সেখানে দিন সংক্ষিপ্ত হয়, রাত দীর্ঘ হয়। সূর্যের আলো কম সময় পাওয়া এবং খাড়া সূর্যালোক না পাওয়ার কারণে দক্ষিণ গোলার্ধে তখন শীতকাল।

২২শে ডিসেম্বর ঘটে বিপরীত ঘটনা। এসময় দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকে, সেখানে তখন গ্রীষ্মকাল আর কম সূর্যের আলো পাওয়ার কারণে উত্তর গোলার্ধে তখন শীতকাল।

সৌরজগতের আরেক গ্রহ বুধ নিজ অক্ষের ওপর প্রায় লম্বভাবে থাকার কারণে সেখানে পৃথিবীর মত ঋতু পরিবর্তন ঘটে না।